সকালের শুরুটা যেমন হবে, দিনের বাকি সময়টাও অনেকটা তেমনই কাটবে। তাই ঘুম থেকে উঠেই কী খাচ্ছেন, সেটা শুধু ক্ষুধা মেটানোর বিষয় নয় এটা আপনার সারাদিনের শক্তি, মনোযোগ এবং কাজের সক্ষমতার সঙ্গেও জড়িত। অনেকেই সকালে শুধু এক কাপ চা বা কফি খেয়েই দিনের শুরু করেন। আবার কেউ কেউ একেবারেই নাস্তা বাদ দেন। কিন্তু এই অভ্যাস শরীরের জন্য ভালো নয়। বরং পুষ্টিকর কিছু খাবার দিয়ে দিন শুরু করলে শরীর থাকবে চাঙা, মনও থাকবে ফুরফুরে।

সকালের নাস্তায় এক মুঠো বাদাম যোগ করতে পারেন। যেমন
আমন্ড
আখরোট
কাজুবাদাম
চিয়া সিড
এসব খাবারে রয়েছে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, প্রোটিন ও ফাইবার, যা দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং ধীরে ধীরে শরীরে শক্তি সরবরাহ করে।
এছাড়া ২–৩টি খেজুরও সকালে খেতে পারেন। অনেকেই জোয়ান বা মৌরি ভেজানো পানি পান করেন, যা হজমের জন্যও উপকারী হতে পারে।
কলা বাংলাদেশের সবচেয়ে সহজলভ্য ও পুষ্টিকর ফলগুলোর একটি।
এতে রয়েছে
পটাশিয়াম
ফাইবার
প্রাকৃতিক কার্বোহাইড্রেট
ভিটামিন বি৬
সকালে একটি কলা খেলে দ্রুত শক্তি পাওয়া যায় এবং দীর্ঘ সময় ক্লান্তি কম অনুভূত হয়। বিশেষ করে যারা অফিস করেন, পড়াশোনা করেন বা ব্যায়াম করেন, তাদের জন্য এটি দারুণ একটি খাবার।
প্রতিদিন সকালে একটি সেদ্ধ ডিম খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন।
ডিমে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন ও প্রয়োজনীয় মিনারেল, যা শরীরকে দীর্ঘ সময় শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। এছাড়া এটি অনেকক্ষণ পেট ভরা রাখে, ফলে অযথা বারবার ক্ষুধাও লাগে না।
যারা স্বাস্থ্যকর ব্রেকফাস্ট খুঁজছেন, তাদের জন্য ওটস একটি ভালো বিকল্প।
ওটসে প্রচুর ফাইবার থাকায় এটি ধীরে ধীরে হজম হয়। ফলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে এবং শরীর সারাদিন স্থিরভাবে এনার্জি পায়। চাইলে ওটসের সঙ্গে দুধ, কলা, বাদাম বা চিয়া সিড মিশিয়ে আরও পুষ্টিকর করে খেতে পারেন।
সকালে ১৫ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটা, স্ট্রেচিং বা হালকা ব্যায়াম করলে শরীর আরও সতেজ থাকে। নিয়মিত শরীরচর্চা রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং সারাদিন কর্মক্ষম থাকতে সাহায্য করে।
স্বাস্থ্যকর দিনের শুরু করতে চাইলে কিছু খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।
খালি পেটে অতিরিক্ত চা বা কফি
অতিরিক্ত চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার
বাজারের প্যাকেটজাত ফলের জুস
তেলেভাজা ও অতিরিক্ত মসলাযুক্ত নাস্তা
এসব খাবার অনেক সময় অ্যাসিডিটি, গ্যাস, হঠাৎ ব্লাড সুগার বেড়ে যাওয়া বা দ্রুত ক্লান্তির কারণ হতে পারে।
স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য সকালের নাস্তার কোনো বিকল্প নেই। প্রতিদিনের ব্রেকফাস্টে যদি ডিম, কলা, বাদাম, ওটস বা অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখেন, তাহলে শরীর প্রয়োজনীয় শক্তি পাবে এবং সারাদিন কাজ করার এনার্জিও বজায় থাকবে।
তবে মনে রাখবেন, প্রত্যেক মানুষের শারীরিক চাহিদা এক নয়। আপনার যদি ডায়াবেটিস, কিডনি সমস্যা বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকে, তাহলে খাদ্যতালিকা পরিবর্তনের আগে অবশ্যই একজন চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন।