বর্ষা এলেই ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ে। উপসর্গ চেনা, ঘরে বসে প্রতিরোধের সহজ উপায় আর কোন লক্ষণে দেরি না করে ডাক্তার দেখাতে হবে, সব এক জায়গায়।

ডেঙ্গু ছড়ায় এডিস মশার কামড়ে। এই মশা নোংরা পানিতে নয়, বরং জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে।
বর্ষাকালে ছাদ, বারান্দা, নির্মাণ সাইট, ফুলের টব, ফেলে রাখা টায়ার, সব জায়গায় অল্প অল্প বৃষ্টির পানি জমে থাকে। মাত্র এক চা-চামচ পানিতেই এই মশা বংশবিস্তার করতে পারে। এই কারণেই বাইরে ওষুধ ছিটানোর চেয়ে নিজের ঘর আর আশপাশে নজর রাখাটা অনেক বেশি কাজে দেয়।
প্রথম এক-দুই দিনে ডেঙ্গু দেখতে একদম সাধারণ ভাইরাল জ্বরের মতোই লাগে। তবে কিছু লক্ষণ ডেঙ্গুর দিকে ইঙ্গিত দেয়।
হঠাৎ করে বেশি তাপমাত্রার জ্বর
প্রচণ্ড মাথাব্যথা
চোখের পেছনে ব্যথা
শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা, যেটাকে অনেকে হাড়ভাঙা জ্বর বলেন
বমি বমি ভাব বা বমি
শরীরে লালচে র্যাশ
অস্বাভাবিক দুর্বলতা
সবার সব উপসর্গ হয় না। কারো খুব হালকা উপসর্গ থাকে, আবার কারো অবস্থা দ্রুত খারাপ হয়। শুধু উপসর্গ দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় না, তাই পরীক্ষা করানো জরুরি।
নিচের যেকোনো একটি দেখা দিলে সাথে সাথে হাসপাতালে বা ডাক্তারের কাছে যান।
পেটে তীব্র ব্যথা
বারবার বমি
নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া, অথবা কালো পায়খানা
শ্বাস নিতে কষ্ট
অতিরিক্ত নিস্তেজ বা অস্থির লাগা
প্রস্রাব অনেক কমে যাওয়া
অনেক পরিবার একটা জায়গায় ভুল করে ফেলেন। জ্বর নেমে যাওয়ার পরের ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা ডেঙ্গুতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময়। জ্বর কমেছে মানেই বিপদ কেটে গেছে, এমন ভাবা ঠিক না। এই সময়টায় রোগীর দিকে বাড়তি নজর রাখুন।
সপ্তাহে অন্তত একদিন ছাদ, বারান্দা ও উঠান ঘুরে দেখুন কোথাও পানি জমে আছে কিনা
ফুলের টবের নিচের ট্রে-র পানি ফেলে দিন
ফ্রিজের পেছনের ট্রে আর এসির পানি জমার জায়গা পরিষ্কার রাখুন
পানির ট্যাংক ও বালতি ঢেকে রাখুন
ফেলে রাখা টায়ার, ভাঙা পাত্র আর ডাবের খোসা সরিয়ে ফেলুন
দিনের বেলায়ও মশারি ব্যবহার করুন, বিশেষ করে শিশু আর বয়স্কদের জন্য
হাত-পা ঢাকা পোশাক পরুন
প্রচুর পানি, ডাবের পানি, খাবার স্যালাইন বা স্যুপ খান। শরীরে পানিশূন্যতা হলে অবস্থা দ্রুত খারাপ হয়।
রোগীকে ঠিকমতো বিশ্রামে রাখুন।
নিজে থেকে কোনো ব্যথার ওষুধ খাবেন না। ডেঙ্গুতে কিছু সাধারণ ব্যথা ও জ্বরের ওষুধ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। কোন ওষুধ খাবেন সেটা ডাক্তারই ঠিক করবেন।
ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষা করান।
ডেঙ্গু বা যেকোনো দীর্ঘস্থায়ী জ্বরে সাধারণত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ দেখাতে হয়। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে শিশু বিশেষজ্ঞ।
DoctorsFindBD-তে এলাকা আর বিশেষত্ব ধরে ডাক্তার খুঁজে নিতে পারেন, সাথে চেম্বারের ঠিকানা ও ভিজিটিং আওয়ার। ডাক্তার খুঁজুন
এই লেখাটি শুধুমাত্র সাধারণ স্বাস্থ্য সচেতনতার জন্য। এটি কোনো চিকিৎসা পরামর্শ বা রোগ নির্ণয়ের বিকল্প নয়। উপসর্গ দেখা দিলে অবশ্যই রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।